লোহালিয়া চাঁনখার খালে সেতু নির্মাণ কাজ বন্ধ
পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী
তারিখ: ২০১৬-০৮-২৭ | সময়: ০৯:০০:১৭
বার্তা রিপোর্ট ॥ পটুয়াখালীর সদর উপজেলার লোহালিয়ার শৌলা এলাকার চানঁখার খালের উপর নির্মাণাধীন সেতুর পাশ দিয়ে যাতায়াতের বিকল্প সড়ক এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পটুয়াখালী সদর থেকে বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা এই চার উপজেলার হাজারো মানুষ প্রতিদিন সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু একটু বৃষ্টি কিংবা জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পেলেই বিকল্প সড়ক ডুবে যাচ্ছে। মোটরসাইকেলের মতো ছোট যান নৌকা উঠে পার হয়ে যাতায়াত করতে পারলেও যাত্রীবাহী বাসও অন্যান্য যান চালাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মানুষজন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতসহ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
এলজিইডি, পটুয়াখালী কার্যালয় সূত্র জানায়, পটুয়াখালী-বাউফল-দশমিনা-গলাচিপা সড়কের জেলার সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের শৌলা এলাকার চাঁনখার খালের উপর পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ বেইলী সেতুটি সরিয়ে সেখানে নতুন করে আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি।
২৬ মিটার দৈর্ঘ্য এবং সাড়ে ৫ মিটার প্রস্থের আরসিসি-গার্ডার এই সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৩৬ লাখ টাকা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি) তত্বাবধানে এই সেতু নির্মাণে কাজ পান একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দিয়ে এক বছরের মধ্যে সেতু নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করার সময়সীমা দেওয়া হয়।
এদিকে পটুয়াখালী জেলা সদর থেকে অপর তিন উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগের এই ব্যস্ততম সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই হাজারো মানুষ মোটরসাইকেল, টমটম, টেম্পু, ইজিবইক এবং যাত্রী বাসে চলাচল করে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ বেইলী সেতু ভেঙে নতুন করে আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ শুরুর সময় মানুষজন ও যানবাহন চালাচলের জন্য নির্মাণাধীন সেতুর দক্ষিণ দিকে বিকল্প সড়ক নির্মাণ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেই বিকল্প সড়ক যানবাহন চলাচল করতে করতে সড়ক ভেঙে ও দেবে গেছে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সড়ক ডুবে যাচ্ছে। এসময় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় পানির উচ্চতা এতটাই বেড়ে যায় যে অনেক নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের বাধ্য হয়ে নৌকায় করে পার হতে হয়।
গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ততম ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন জেলা শহরের সাথে দশমিনা, বাউফল ও গলাচিপা উপজেলার হাজারো যাত্রী মটরসাইকেল। ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে যে বিকল্প সড়কটি নির্মাণ করছে তা বর্ষা মৌসুমের শুরুতে পানির নিচে ডুবে রয়েছে। ফলে ঝূঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রীবাহী বাহনগুলো। ওই স্থানে যানবাহন থেকে ওঠা নামাসহ নানা ভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীরা। অপরদিকে দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রায়ই। অথচ ওই উপজেলাগুলোর সাথে যোগাযোগ সুগম রাখতে ব্রিজ ভাঙার আগেই বিকল্প সড়ক তৈরীতে ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি সঠিক ভাবে বিকল্প সড়কটি পর্যাপ্ত মাটি দিয়ে ভরাট না করায় পানিতে ডুবে থাকে এবং চরম দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ পথচারীরা।
এই পথে প্রতিদিন দশমিনা উপজেলা শহরে যাতায়াত করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, বিকল্প সড়ক ডুবে গেলেই নৌকায় মোটরসাইকেল নিয়ে পার হতে হয়। এসময় প্রতিটি মোটরসাইকেল থেকে ২০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। ঝুঁকিতো রয়েছেই। কবে সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হবে, আর মানুষের ভোগান্তি কমবে?
তবে সেতু নির্মাণের ঠিকাদার বলেন, বিকল্প সড়ক সেতুর উত্তর দিক দিয়ে করার কথা কিন্তু সেখানে স্থানীয়রা বাঁধা দেওয়ায় দক্ষিণ পার্শ্বে খাল ভরাট করে বিকল্প সড়ক করতে হয়েছে। ভারি বৃষ্টি ও জোয়ারের প্লাবনে সেতু ডুবে ও দেবে যাচ্ছে। স্লুইস গেট খুলে পানি নিস্কাসনও করা যাচ্ছে না। তবে মানুষ যে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে তা দ্রুত নিরসন করাসহ দ্রুত নির্ধারিত সময়ের আগেই সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি।
এলজিইডি, পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সালেহ মোহাম্মদ হানিফ বলেন, সেতু নির্মাণে ৬৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এখন গার্ডার ও স্লাব নির্মাণ শুরু হবে। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সেতু নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও যে ভাবে নির্মাণ কাজ এগুচ্ছে এতে করে ডিসেম্বরের মধ্যে সেতু নির্মান শেষ হবে এবং এই সড়কে যাতায়াত আরো সহজ হবে।
Comment Disabled



