পটুয়াখালীর ভুয়া পে-অর্ডারের ঠিকাদার বেনজীর

স্টাফ রিপোর্টার 3
পটুয়াখালী বার্তা, পটুয়াখালী

তারিখ: ২০১৬-০৮-২২ | সময়: ০৯:০১:১০


স্টাফ রিপোর্টার ॥ পটুয়াখালী ন্যাশনাল ব্যাংক শাখায় দুই লক্ষ ৫ হাজার টাকার ভুয়া পে-অর্ডারসহ বাহক গহর এন্টার প্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী সালাহ উদ্দিন বেনজীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে রহস্যজনক ভাবে ছেড়ে দিলেন ওই ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দিন আহমেদ। ২২ আগস্ট সোমবার সকাল ১০টার দিকে ভুয়া পে-অর্ডারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েও দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। সালাউদ্দিন আহমেদ বেনজির এর বাসা পটুয়াখালী আবদুল্লাহ ক্লিনিক সংলগ্ন এলাকায়।
জানা গেছে, ১৮ আগস্ট একটি কাজের অনুকূলে গহর এন্টার প্রাইজের সত্ত্বাধিকারী সালাউদ্দিন আহমেদ বেনজির বরিশাল ন্যাশনাল ব্যাংকের শাখা থেকে পে-অর্ডার নং এন,পি,ও ৫৮৭৪৪৬৩, তারিখ ১৮ আগষ্ট-২০১৬) পটুয়াখালী জনস্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর নামে দুই লক্ষ ৫ হাজার টাকার একটি পে-অর্ডার ইস্যু দেখান। ২২ আগস্ট সোমবার সকালে উক্ত পে-অর্ডার অনলাইনের (ইজিপি) মাধ্যমে পটুয়াখালী ন্যাশনাল ব্যাংক শাখায় তার প্রতিষ্ঠানের নামে প্রদান করেন। এসময় পটুয়াখালী ন্যাশনাল ব্যাংকের ম্যানেজার জালাল উদ্দিন আহমেদ পে-অর্ডার খানা যাচাইয়ের জন্য বরিশাল শাখাকে অবহিত করেন। এর কিছুক্ষণ পরে বরিশাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উক্ত পেÑঅর্ডারটি ভুয়া বলে নিশ্চিত করেন। এরপর থেকে ওই ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দিনের সাথে ভুয়া পে-অর্ডার বাহক সালাউদ্দিন আহমেদ বেনজিরকে বসিয়ে রাখেন এবং দেন দরবার চালায়। এক পর্যায় একটি মুচলেখা রেখে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এদিকে বিষয়টি নিয়ে লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন মহলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক একটি পত্র প্রেরণ করলেও তাদের কোন ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে নতুন বাজারস্থ ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দিন আহমেদ জানান,“যে ব্যক্তি (সালাউদ্দিন আহমেদ বেনজির) পেÑঅর্ডার নিয়ে ব্যাংকে আসছেন, তাকে চাইলেই পাওয়া যাবে, তাই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সালাউদ্দিন আহমেদ বেনজির জানান “ এ পে-অর্ডার আমার নয়। আমাকে আমার এক বন্ধু দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জানান, সালাউদ্দিন আহমেদ বেনজির এর আগেরও ভুয়া পেÑঅর্ডার দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন এবং বর্তমানে বিভিন্ন অফিসে তার ভুয়া পে-অর্ডার রয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। পুরান বাজারের একজন ঠিকাদার জানান, সালাহ উদ্দিন এভাবেই ভুয়া পে-অর্ডার দিয়ে বিভিন্ন অফিসে কাজ করে।





Comment Disabled

Comments